জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের দুই বছরের সাফল্য (২০১০-২০১১)

http://abdullahharun.net/?p=345

বিশ্বের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াবলী বিবেচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের সাফল্য অন্য যে কোন সরকারের তুলনায় প্রশংসনীয় এবং অগ্রগামী। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দিকে সাফল্যের সাথে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে মায়ানমারের সাথে অমীমাংসিত সমুদ্র বিজয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের লক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন, দুর্নীতি ও লালফিতার দৌরাত্ম্যকমাতে টেন্ডারসহ সরকারী বিভাগসমূহের ডিজিটালাইজেশন, ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা কেন্দ্র স্থাপন, জেলা শহরে বার্ন ইউনিট গঠন, রেলমন্ত্রনালয় পৃথকীকরণ, আইটি পার্ক, দেশকে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস, কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য ৬শ ৮২ একর ভূমি বরাদ্দ ইত্যাদি পদক্ষেপ বাংলাদেশকে মাঝারি আয়ের দেশে পরিণত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ২০১০-১১ এ দুই বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার বাস্তব ও গণমুখী নেতৃত্বে সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সব সাফল্য অর্জন করেছে তা এখানে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

এটুআই (এ২আই) প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ই-সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার লোককে সরাসরি সেবা দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল নাগরিককে ই-সেবা দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে কৃষিখাত, ব্যবসা-বাণিজ্য, রেলওয়ে টিকেট বিক্রয়, পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা, বিভিন্ন ধরনের বিল প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। বেপজার অধীনস্থ বিভিন্ন জোনের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ব্যবসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে আমদানি-রপ্তানি অনুমোদনের ক্ষেত্রে অটোমেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ইপিজেড এলাকায় ৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে এবং আরো ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইপিজেডস্থ শিল্প-প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে যা দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে। আশ্রায়ণ প্রকল্প (ফেইজ-২) এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারের জন্যে গৃহীত কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে ইতোমধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় আরো ৫০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনে জন্য উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকায় ব্যারাক ও গৃহনির্মাণের কাজ জুলাই-২০১০ থেকে শুরু হয়েছে যা জুন ২০১৪ সালে সম্পন্ন হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত পলিসি এন্ড স্ট্র্যাটেজি ফর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, ২০১০-এর আওতায় তিনটি গাইড লাইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ

তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৫০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও ৭টি অধিদফতর ইউনিকোড বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ সমূহের মধ্যে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ স্থাপন কার্যক্রমের আওতায় ২৩টি মন্ত্রণালয়/ বিভাগকে সচিবালয় নেটওয়ার্ক ব্যাকবোনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনসহ সকল পর্যায়ে ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান, ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। রংপুরকে প্রশাসনিক বিভাগ করা হয়েছে।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয়

জনপ্রশাসনে অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রচলিত বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসম্পাদন ভিত্তিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবস্থা প্রবর্তনের কার্যক্রম চলছে । মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও নথি নিষ্পত্তি দ্রুততর করার লক্ষ্যে ডিজিটাল নথি প্রণয়ন, নথি ট্র্যাকিং ও নোটিং বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্যে ৬৬৫টি ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়

তিনসালা মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোকে পাঁচশালা কাঠামোতে প্রণয়ন করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বাজেট প্রণয়ন ও বাংলাদেশ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং এ তহবিলকে কোম্পানিতে রূপান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সহজ উপায়ে কৃষিঋণ এবং সরকারি ভর্তুকির অর্থ পেতে ন্যূনতম ১০(দশ)টাকা সঞ্চয়ের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। করদাতাদের কর প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়কর মেলা এবং অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কর ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অটোমেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপরেখা (২০১০-২১) প্রণয়ন করা হয়েছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-১৫) প্রণয়নের কাজ চলছে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানব সম্পদ উন্নয়ন, পশ্চাৎপদ এলাকার অধিকতর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করে ৩৮,৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (২০১০-১১) গৃহীত হয়েছে। এতে মোট ৯১৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত বিডিআর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যারা গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসমূহ সংঘটন করেছে উল্লেখিত অপরাধসমূহ বিচারের জন্য বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধনী) আইন, ২০০৯ পাশ করেছে। আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলাসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা ০৭ থেকে ১১ এ উন্নীত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি ওয়েব সাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং সকল শাখায় ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। ২০১৫ সালের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের মোট ১০ লক্ষ হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসে ডিএফআইডি’র ৮৮৪কোটি টাকা (৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড) অনুদান সহায়তাসহ মোট ৮৮৬.৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেব্রুয়ারি ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর২০১৫ মেয়াদে ইকনোমিক এমপাওয়ারমেন্ট অব দি পুওরেস্ট ইন বাংলাদেশ (ইইপি) শীর্ষক একটি প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জুলাই ২০০৯ থেকে পল্লী এলাকায় উন্নত সেবা ই-পরিষদ শীর্ষক একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়

সকল প্রকার নন-ইউরিয়া সারের দাম কয়েক দফায় কমিয়ে চার ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের প্রচলন করে কৃষকেরা ১০ (দশ) টাকার ব্যাংক একাউন্ট খুলে সে একাউন্টের মাধ্যমে সরকারের দেয়া ভর্তুকিসহ বিভিন্ন কৃষি সহায়তা গ্রহণ করছেন। সরকারের সহায়তায় পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার দেশের কৃষি খাতে বিশাল অর্জন। কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান ২৫% ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান, রিবন রেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে ১৫ হাজার রিবনার প্রদান করা হয়েছে।

খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়

স্বল্প-আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্যে ফেয়ার প্রাইস কার্ড চালু করা হয়েছে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার সরকার নির্ধারিত মূল্যে মাসে ২০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। বর্তমানে সারা দেশে এক লাখ ৩৫ হাজার মে. টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্য-গুদামের নির্মাণ কাজ চলছে। আরো প্রায় সাড়ে আট লাখ মে. টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্য-গুদাম সাইলো নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। আইলা ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ হিসেবে ১৩,৪০২ মে. টন চাল এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

জাতীয় শিক্ষানীতি জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে। প্রাথমিকের শতভাগসহ এবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরিসহ মাধ্যমিকের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ২০১০ সালের প্রথম দিনেই বই তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ঝরে পড়ার হার হ্রাস পাওয়ায় এবছর গত বছরের ১৯ কোটি বইয়ের স্থলে ২৩ কোটি ২০ লক্ষ বই ছাপিয়ে পয়লা জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও নতুন শিক্ষানীতিতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

বর্তমান সরকার দু’বছরে প্রায় ৫৩ হাজার ১৪১জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগদান করেছে। প্রায় ৯ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের চাকুরী দেয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে চাকুরী দেয়ার কার্যক্রম চলমান আছে। ২০১১ সালের মধ্যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৫৫টি পিটিআই-এ আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে এক হাজার ১০০ অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন হতে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য “বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১০” চালু করা হয়েছে ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও অন্যান্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র হিসেবে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৭ শত ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। ২৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ৭৮০ ও অ্যাডহক ভিত্তিতে ৩৫৫১ জন চিকিৎসক নিয়োগ এবং ১৭২২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ৬ হাজার ৩ শত ৯১জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে । মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন ও বিপুল সম্ভাবনাময় ঔষধ রপ্তানি সুবিধার উন্নয়ন জোরদার করতে ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থিদের দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার নিশ্চিত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটি গঠন করা হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য শিল্পাঞ্চল পুলিশ গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-কে পুনর্গঠন করে ’বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিকমানের ও স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। বাংলাদেশ পাসপোর্টকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রবর্তন করা হয়েছে। জনগণের মধ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয়েছে। ইভ-টিজিং রোধে (মেয়েদের উত্ত্যক্ত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মেয়েদের উত্ত্যক্তকারী ব্যক্তিকে তাৎক্ষনিকভাবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিচার করার জন্য মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ সংশোধন করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সিএফএল ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে এই প্রথমবারের মতো দেশে বিনামূল্যে ৪৫ লাখ গ্রাহককে ১ কোটি ৫ লক্ষ এনার্জি সাশ্রয়ী সিএফএল বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮০-১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। গ্যাসের যথার্থ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ জারী করা হয়েছে। গ্যাস সেক্টরের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠন করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী আমদানি নীতি ও রপ্তানি নীতি ২০০৯-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় রাখতে টিসিবি’কে সক্রিয় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণমূলক সমতা সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যথাঃ চিনি, সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, মশুর ডাল ও ছোলার আপতকালীন মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে এবং টিসিবি’র নিয়োগকৃত ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

রাজউক এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ৪৩ হাজার প্লট উন্নয়ন ও সাড়ে ৪ হাজার ফ্লাট নির্মাণের কাজ ৩২টি অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় চলমান রয়েছে। ঢাকার চারপাশে চারটি স্যাটেলাইট শহরে ১১৫০০ প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

গার্মেন্টস সেক্টরসহ মোট ১৪টি বেসরকারি শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী পুনঃনির্ধারণসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য জাতীয় মজুরী ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১০ গঠন করা হয়েছে। জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার ও কর্তব্য সচেতনতামূলক ৬৬টি শ্রমিক শিক্ষা কোর্স আয়োজনের মাধ্যমে ১,৫৫৬ জন শ্রমিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য প্রবাহের অবাধ চলাচল সুনিশ্চিত করার জন্য তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ পাশ করা হয়েছে এবং তথ্য কমিশন গঠন, বেসরকারি মালিকানায় এফএম বেতারকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম (৩য় পর্যায়ে) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

দেশে উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্প প্রসারের জন্য কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক এবং কাওরান বাজারের বিসিএসআরএস ভবনে আশিটি ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া ফেডারেশন সরকারের সাথে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। দেশে নবীন বিজ্ঞানী ও গবেষক সৃষ্টির জন্য বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ প্রবর্তন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রূপকল্প ২০২১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলত: বিশ্বপরিমন্ডলে বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ এবং কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং উদ্যোগ বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। গত দুই বছরে সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনে বাংলাদেশ বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, ইউএনইপি, ইউনেস্কো, ডব্লিউএইচও, আইটিইউ ইত্যাদি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

শিক্ষিত আগ্রহী বেকার যুবক/যুবমহিলাদের জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট দল ওয়েষ্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়লাভ করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

৩৫০০টি পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬৮,০০০ শিশুকে প্রি-স্কুল শিক্ষাদান করা হয়েছে। প্রায় ১,১৮,০০০ পরিবারের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান উন্নয়ন, ৪টি আবাসিক বিদ্যালয়ের ৭০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদান করা হয়েছে। ৯৯৮ জন পাড়া কর্মীর মৌলিক ও ১৫০০ জন পাড়াকর্মীর সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ, ৫০ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ, ১১৮০টি পাড়াকেন্দ্রের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ।

শিল্প মন্ত্রণালয়

২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের শিল্পসমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। সারের মূল্য তিন দফায় কমিয়ে কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ২০০৯-২০১০ উৎপাদন মৌসুমে ১৭ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। জাতীয় লবণনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

দেশের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ শীর্ষক কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ কর্তৃক ২০১০-১১ অর্থ বছরের বাজেটে সংস্কৃতি খাতে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত স্থান নিয়ে সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয় গড়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়

ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানার বাংলাদেশ সীমানার সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সেক্টরের সর্বমোট ১১২৯টি স্ট্রিপ ম্যাপের স্ক্যানিং ও ডিজিটাইজিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থ বছরে উপজেলা প্রতি ৪৬টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ৫ হাজার একর কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর ও ৬৪টি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মোট ৭২টি পয়েন্ট ভিডিও কনফারেনসিং নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে। প্রবাসীগণ স্বল্প ব্যয়ে যাতে কথা বলতে পারেন সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল রেট ৪ মার্কিন সেন্ট থেকে কমিয়ে ৩ মার্কিন সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩টি পার্বত্য জেলায় টেলিটক মোবাইল চালু করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ ও টেরিস্টেরিয়াল নীতিমালা ২০১০ প্রণীত হয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে কক্সবাজার জেলার সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন কার্যক্রম দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করার জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল স্থল বন্দরের আধুনিকীকরণ কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ১টি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৬টি নতুন মেরিন একাডেমী স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। দেশের বৃহত্তর ২১টি জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ও পরিবেশ আদালত স্থাপনের জন্য পরিবেশ আদালত আইন ২০০০ সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় পরিবেশ পদক চালু করা হয়েছে। চিত্রল হরিণ লালন-পালন সংক্রান্ত নীতিমালা ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাহাজ ভাঙ্গা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

অভিবাসী কর্মীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত স্মার্ট-কার্ড চালু করা হয়েছে। অভিবাসীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, রেমিট্যান্স গ্রহণ ও তাদের প্রেরিত অর্থ দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং একই সাথে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৩০টি জেলায় ৩০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৫টি মেরিন টেকনোলজি ইন্সটিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মৎস্য ও পানিসম্পদ অধিদপ্তর

রূপকল্প ২০২১ এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বিবেচনায় রেখে ইতোমধ্যেই মৎস্য উন্নয়ন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০০৯-২০২১) প্রণয়ন করা হয়েছে। পানিসম্পদ অধিদপ্তর ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাংস, দুধ, ডিমের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

হজ্জ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আদান-প্রদান ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত ১৬ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত বৃদ্ধি করা হয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এবারই প্রথম খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

পর্যটন নীতিমালা ২০১০ প্রণয়ন, পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা, বিশেষ পর্যটন আইন ২০১০ প্রণয়ন, টুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হয়েছে। এডিপির অর্থায়নে ১০৯৭.২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘কুয়াকাটা মোটেলে ও ইয়ুথ ইন’ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

বৈশ্বিক উষ্ণতাজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সমুদ্র হতে ভূমি উদ্ধার প্রকল্পসহ গঙ্গায় বাঁধ নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি স্বল্পতার প্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে যৌথ নদী কমিশন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার পণ্যের মোড়কী করনে পাটজাত পণ্যের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ প্রণয়ন করেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প প্রসারের প্রয়াসে খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০১০ থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানার্থে ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সকল জেলায় এবং ৮০৬.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সকল উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

বয়স্ক ভাতা ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৪.৭৫ লক্ষ ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪২.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাদের জন্য ভাতা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থ সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। নভেম্বরে শুরু করে নয় মাসে কার্যকরের পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। মহানগরীর যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চুড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে আলাদা বিভাগে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে ও অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে যানবাহন কর দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাশিয়ানি হতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি স্থল পর্যন্ত এবং ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে ঢালার চর পর্যন্ত নতুন ব্রড গেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

খসড়া জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি অনুমোদনের কার্যক্রম চলমান আছে। বিমান বাহিনীতে এ.আর-১৫ রাডার এর কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এফ-৭ জঙ্গী বিমানের সার্বিক সুবিধা স্থাপনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি ক্যাডেট কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও এমআইএসটিতে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০ মহান জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পূর্বের ৬টি বিভাগীয় শহরের সাথে রংপুর বিভাগে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ইভটিজিং প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যাসলী, মানব বন্ধন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত এক বছরে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫% যা একটি রেকর্ড। আশা করা যায় সরকারী সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য স্থান অর্জন করবে। সম্প্রতি ব্রাজিলে মিশন খোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘ শিশুদের অপুষ্টির বিরুদ্ধে পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিতে শেখ হাসিনাকে মনোনীত করেছে। নির্বাচনী ইশতিহারে যে সকল প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছিল তাকে সামনে রেখে সরকার জাতি গঠনের কাজে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে বাংলাদেশ পরিণত হবে একটি মধ্যম আয়ের দেশে।

Posted in The leading political party | Leave a comment

জননেতা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার শ্রদ্ধাঞ্জলি

জননেতা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার শ্রদ্ধাঞ্জলি জননেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ছিলেন পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছুঁয়ে গেছেন সকল স্তরকে ও সব কিছুকে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের মানসপটে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার নিত্য ও সদা বিরাজমান। আজ ৭ মে জননেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার (বর্তমানে গাজীপুর জেলা) পুবাইল ইউনিয়নের হায়দর…াবাদ গ্রামে আহসান উল্লাহ মাস্টার জন্মগ্রহণ করেন। আহসান উল্লাহ মাস্টারের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের হায়দরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষা জীবন শেষ করে টঙ্গী হাইস্কুলে ভর্তি হন। তখন থেকেই টঙ্গীতে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। ১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে রাজপথে নামে ছাত্র-ছাত্রীরা। সে সময়ে টঙ্গীতে যে আন্দোলন হয়েছিল সেই আন্দোলনে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র আহসান উল্লাহ রাজপথে নেমে পড়েন। অংশগ্রহণ করেন মিছিলে। তখন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। আহসান উল্লাহ ১৯৬৫ সালে টঙ্গী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত তৎকালীন কায়েদে আজম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারী কলেজ) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত বাঙালীর মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা যখন রাজপথে, তখনও ভাওয়ালের এই সন্তান আহসান উল্লাহ রাজপথের একজন সাহসী সৈনিক। রাজনীতির লড়াকু সৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠতে থাকে। তিনি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে রাজনীতি চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৬৮ সালে তথাকথিত আগরতলা মামলায় বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত করে। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহ করার নিমিত্তে টঙ্গী-জয়দেবপুরের জন্য যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে ‘মুজিব তহবিল’-এর জন্য প্রতিটি কুপন ১০ পয়সা করে বিক্রয় করেন। ১৯৬৯ সালে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। আহসান উল্লাহ ১৯৭০ সালে ডিগ্রী পাস করেন। টঙ্গীর নতুন বাজারে অবস্থিত টঙ্গী হাইস্কুল আউচপাড়ায় স্থানান্তর হওয়ার পর টঙ্গীর নোয়াগাঁও-তে এমএ মজিদ মিয়া হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে। এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠার জন্য যে ক’জন শিক্ষানুরাগীর অবদান ছিল তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ একজন। স্কুলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি ঐ স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক (১৯৭৭-১৯৮৪) ও প্রধান শিক্ষকের (১৯৮৪-২০০৪) দায়িত্ব যোগ্যতার সঙ্গে আমৃত্যু পালন করেন। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের ক্যান্টনমেন্টের বাঙালী সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে ঢাকা থেকে আসা পাকিস্তানী বাহিনীকে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়ার জন্য জনতাকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ডাক দেন বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করার। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্যাতিত হন। আহত অবস্থায় আহসান উল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের দেরাদুনের তান্দুয়া থেকে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে ডাঙ্গা, পুবাইল, টঙ্গী, ছয়দানাসহ বিভিন্ন স্থানে গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিকেলে দেশ শত্রুমুক্ত হয় ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জিত হয়। আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় ভাস্বর হয়ে থাকবে। তিনি শিক্ষকদের নেতা ছিলেন। টঙ্গীর শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সবার প্রিয়ভাজন হয়েছেন। কিন্তু আমাদের ট্র্যাজেডি হচ্ছে যে স্কুলে তিনি প্রধান শিক্ষক, সেই স্কুলের বিজ্ঞান ভবনের সামনে ২০০৪ সালের ৭ মে কুচক্রীমহল গুলি করে হত্যা করে তাঁকে। ঐ প্রিয় শিক্ষকের গড়া স্কুল রক্তাক্ত হলো তাঁর নিজের রক্ত দিয়ে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ছিলেন জননেতা ও রাজনৈতিক নেতা এবং গণমানুষের নেতা। রাজনীতি যখন পেশী ও অর্থশক্তির হাতে বন্দী, তখন এই ব্যতিক্রমী জননেতার নীতি ও আদর্শ অনুকরণীয়। টঙ্গীর শিক্ষক সমিতির নেতা হিসেবে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সব কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে শিক্ষকদের কাছে প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। তাঁর ঘাতকরা বিচারিক আদালত থেকে শাস্তি পেয়েছে এবং আইনগত চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী। অন্যদিকে জননেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার যে অসুস্থ রাজনীতি ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, সেই অসুস্থ রাজনীতির দূরীকরণ ও অপশক্তিকে সমাজ থেকে নির্মূল করা যায়নি। আজ সেই অসুস্থ রাজনীতি ও অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভবোধের জাগরণ ঘটুক শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
Posted in Freedom of Speaks, the Reality of 1971, Tragedy of the century | Leave a comment

We all owe to Bangabandhu

We all owe to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman our Identity as a nation or an independent Country with his mountain tall personality as the best BANGALI of the century and touring contribution to our nationhood. Bangabandhu will always remain as an eternal source of inspiration for all bangalee’s and bangla speaking people. We’re the ideal followers of Bangabandhu. We’ll build his SONAR BANGLA in very near future inshallah.

Posted in father of bengalee nation | Leave a comment

The Rechest Peoples’ in Bangladesh

Now let’s move to the ninth position of the Bangladesh richest lists. In this rank, you will see Ragib Ali has taken the position. His wealth is estimated to have increased on the level of US$ 250 million.

Bangladesh richest lists: Ragib Ali
Bangladesh richest lists: Ragib Ali

8. Shahrin Islam Tuhin: US$ 300 million

Let’s see who comes on the eighth position of the Bangladesh richest lists. You will get Shahrin Islam Tuhin. The net worth of this man is counted in the value of US$ 300 million.

Bangladesh richest lists: Shahrin Islam Tuhin
Bangladesh richest lists: Shahrin Islam Tuhin

7. Giasuddin Mamun: US$ 400 million

On the seventh place of Bangladesh richest lists, you will see that Giasuddin Mamun has caught the valuable place. His net worth is estimated on the level of US$ 400 million.

Bangladesh richest lists: Giasuddin Mamun
Bangladesh richest lists: Giasuddin Mamun

6. Ahmed Akbar Sobhan: US$ 500 million

Ahmed Akbar Sobhan is a millionaire who can take the sixth position in the Bangladesh richest lists. His US$ 500 million-net worth is huge enough to take him on this valuable rank.

Bangladesh richest lists: Ahmed Akbar Sobhan
Bangladesh richest lists: Ahmed Akbar Sobhan

5. Sayeed Iskander: US$ 1 billion

With the net worth lies on 1 billion dollar, Sayeed Iskander can achieve the fifth place of the Bangladesh richesr lists.

Bangladesh richest lists: Sayeed Iskander
Bangladesh richest lists: Sayeed Iskander

4. Tarique Rahman: US$ 1 billion

Just like the previous person, on the fourth position we get Tarique Rahman who has the 1 billion dollar net worth. Don’t get jealous when he is included on the Bangladesh richest lists.

Bangladesh richest lists: Tarique Rahman
Bangladesh richest lists: Tarique Rahman

3. Shamsuddin Khan: US$ 1 billion

Another person who has the same wealth in 1 billion dollar is Shamsuddin Khan. This man is placed on the third position of the Bangladesh richest lists.

Bangladesh richest lists: Shamsuddin KhanBangladesh richest lists: Shamsuddin Khan

2. Musa bin Shamser: US$ 1.5 billion

The next position of the Bangladesh richest lists is taken by Musa bin Shamser. This man is placed on the second position. His prosperity is counted in the rate of 1.5 billion dollar.

Bangladesh richest lists: Moosa Bin samseer
Bangladesh richest lists: Moosa Bin samseer

(war Criminal(Rajakar) Loona Musa of Faridpur)

1.    Abul Kashem: US$ 1.5 billion

On the first position of the Bangladesh richest lists, you will be served with the appearance of Abul Kashem. His net work is also the same with the previous man. It is in the rate of 1.5 billion dollars.

Bangladesh richest lists: Abul Kashem
Bangladesh richest lists: Abul Kashem

Have you seen one of this richest people in Bangladesh?

Posted in Freedom of Speaks | Comments Off

জামায়াত প্রস্তুতি নিচ্ছে মরণ কামড় দেয়ার?

জামায়াত প্রস্তুতি নিচ্ছে মরণ কামড় দেয়ার?

অস্তিত্ব রৰায় জামায়াতে ইসলামী মরণ কামড় দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াত ১৯৯১ সাল থেকে জঙ্গী সংগঠনগুলোর সরাসরি গডফাদার হিসেবে কাজ করছে। সর্বশেষ বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর গঠনেও জামায়াতের মদদ ছিল। জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদদ ও আর্থিক সহায়তায় এখনও দেশে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনসহ ৩৬টি দলের তৎপরতা রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে প্রায় একযুগ পর নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত ৩৬টি দলকে মাঠে নামাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ৰমতাসীন হওয়ার পর থেকেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে প্রথমে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে চারদলীয় জোটের মাধ্যমে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথ খোঁজে। সে পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। এরপর জামায়াতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সরকার ও জনগণকে ধারণা দিতে হার্ডলাইনে যায় দলটি। পুরো দেশে জামায়াত সম্পর্কে ভীতি সৃষ্টি করতে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে হত্যার পর তার লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় অভিযান। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়েরকৃত মামলায় ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের মুখপাত্র ও প্রধান সমন্বয়কারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিৰক অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহম্মেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর দলটির অর্থের যোগানদাতা কাজী মোরশেদুল হককে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত বছরের ৮ জুন হিযবুত তাহ্রীরের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিৰক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মাওলাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরাই গোয়েন্দাদের কাছে প্রথম প্রকাশ করে দেন হিযবুত তাহ্রীর গঠনে বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি মদদ ছিল। বিশেষভাবে মদদ ছিল জামায়াতে ইসলামীর। জামায়াতে ইসলামী হিযবুত তাহ্রীর গঠনে আর্থিক সহায়তাও করেছিল। হিযবুত তাহ্রীর গঠনের পর দলটিকে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের নিজস্ব ঘাঁটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ২৩৪ নম্বর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের খায়রম্নন্নেসা ভবনেই দলীয় কার্যক্রম চালানোর জন্য অফিস খুলে দেয়। ২০০৮ সালে পাকিসত্মানে হিযবুত তাহ্রীর নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয় ২০০৯ সালের ২৪ এপ্রিল। গত বছরের ২৪ মে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির প্রধান মুফতি মাওলানা সাইদুর রহমান জাফরসহ জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে নজরম্নল ওরফে শিবলু, সামরিক শাখার সমন্বয়ক আমির হোসেন ওরফে শরীফ, এহসার সদস্য নূর হোসেন ওরফে সবুজ ও নাইমা নামে জেএমবির এক মহিলা সদস্যকে শক্তিশালী গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, গ্রেনেড তৈরির বিস্ফোরক, আত্মঘাতী হামলা চালানোর নানা সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ জিহাদী বইসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। সাইদুর রহমানের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএমবি জামায়াতের অঙ্গসংগঠন। জামায়াতের নির্দেশেই জঙ্গীরা ঢাকায় আসত্মানা গাড়ছে। মজুদ করছে অস্ত্র গোলাবারম্নদ। নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী গ্রেফতার হওয়ার পর কামারম্নজ্জামান ও কাদের মোলস্না জামায়াত-শিবির ও জঙ্গী সংগঠনগুলোকে নিয়ে তিনসত্মর বিশিষ্ট একটি নয়া ফোরাম গঠন করে। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে দেশ অচল করে দেয়ার নানা কৌশল উদ্ভাবন করে। কৌশলের মধ্যে রয়েছে গুপ্তহত্যা, প্রয়োজনে প্রকাশ্যে হত্যা, খুন, অতর্কিতে হামলা, গুপ্তহামলা, বড় ধরনের নাশকতা চালানো। ১৯৯১ সালে বিএনপি ৰমতায় গেলে দেশে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটে। জামায়াত জঙ্গীসহ মৌলবাদী দলগুলোর গডফাদারের ভূমিকা পালন করতে থাকে। জামায়াতের প্রত্যৰ মদদ ও আর্থিক সহায়তায় দেশে ৩৬টি সংগঠন এখনও তৎপর রয়েছে। জামায়াত আর্থিকভাবে জঙ্গী সংগঠনগুলোকে সহায়তা করে আসছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রসত্ম করতে জামায়াত ৩৬টি দলকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্যদিয়ে অসত্মিত্ব সংকটে পড়তে পারে জামায়াত। এজন্য মরণ কামড় দেয়ার প্রসত্মুতি নিচ্ছে জামায়াত। ভবিষ্যতে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গী সংগঠনগুলো ভয়াবহ নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Posted in the Reality of 1971 | Comments Off

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না, খালেদা জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না, খালেদা জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮

15122011প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের সঙ্গে বেঈমানি করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ ত্যাগ না করলে দেশের জনগণ একদিন যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতার দায়ে আপনার বিচার চাইবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই বলে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশের বিশেষ করে যুবসমাজ, নতুন প্রজন্ম জেগে উঠেছে। কাজেই যত চেষ্টাই করা হোক না কেন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা যাবে না।

আওয়ামী লীগের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি মর্মে বিরোধীদলীয় নেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যুদ্ধ করেনি, তাহলে কে যুদ্ধ করেছিল? একাত্তরে কে মুক্তিযুদ্ধ করেছে তার সাক্ষী ইতিহাস। আর যিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছেন সেই খালেদা জিয়ার কাছ থেকে কাউকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী দাবি করেছেন, তিনি নাকি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কোথায় যুদ্ধ করেছেন তিনি দেশবাসী তা জানতে চায়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি সম্প্রতি এমন অভিযোগও করছে বিরোধী দল। অথচ দেশবাসী জানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে ২৩ বছরের সংগ্রাম আর ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রত্যেকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতি আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা রাজপথে ছিলাম। শেখ কামাল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে। বন্দিদশা থেকে পালিয়ে গিয়ে শেখ জামাল ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি নিবিড়ভাবে গেরিলা যুদ্ধের তত্ত্বাবধান করেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমান একাত্তরের ২৫ মার্চে কোথায় ছিলেন, কী করছিলেন? বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর যখন সারাদেশে বাঙালিরা পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যারিকেড সৃষ্টি করছিল। তখন চট্টগ্রামে পাকবাহিনীরা নির্বিচারে গুলি করে বাঙালিদের হত্যা করেছিল। ওই হত্যাযজ্ঞে পাকবাহিনীর একজন ছিলেন জিয়া। জিয়াউর রহমানই মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ খালাস করতে গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাকে (জিয়া) কয়েকবার বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন রণক্ষেত্রে কখনোই জিয়ার যুদ্ধ করার কোনো প্রমাণও নেই। অনেকেই তখন জিয়াকে ‘মেজর রিট্রিড’ বলতো। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রের তিন কিলোমিটার দূরে দূরে নাকি তিনি থাকতেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা হয়েছে, জিয়াউর রহমান মেজর থেকে মেজর জেনারেল হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই। আর খালেদা জিয়াও স্বাধীনতার পর জিয়ার স্ত্রী ছিলেন তাও বঙ্গবন্ধুর দয়ায়। আজ বড় বড় কথা তার (খালেদা) মানায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বড়ই মনোকষ্ট। উনার স্বামী জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইয়াহিয়ার দূত এম এ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, দেড়শ’ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাকারী আবদুল আলিমকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, পরবর্তীতে প্রায় ১৮টি ক্যুর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার, সৈনিককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিলেন এই জেনারেল জিয়া। নাগরিকত্ব না থাকা গোলাম আযমদের দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক অধিকারও দিয়েছিলেন। জিয়ার স্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারা বাংলাদেশ আজ জেগে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুব সমাজ আজ নতুন করে জেগে উঠেছে। নতুন প্রজন্মরাও আজ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও প্রকৃত ঘটনা জানতে চায়। তারা শিকড়ের সন্ধান চায়। আজ লাখো শহীদ পরিবারের আকুতি, সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের প্রাণের দাবি- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন বাংলার মাটিতেই হয়। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো এবং দেশের মাটিতেই বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। বিরোধীদলীয় নেত্রী তাদের রক্ষা করতে পারবেন না।
গতকাল বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে আওয়ামী লীগ ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ আলোচনাসভার আয়োজন করে। বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্য এবং জেলখানায় নিহত জাতীয় চার নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায় সেইসব ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা-সার্বভৌম ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।


জিয়া অরফানেজের নামে এতিমদের জন্য সংগৃহীত টাকা আত্মসাতের জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রীর কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রকৃত চেহারা আজ জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। এরপরও তিনি বড় গলায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, এতিমদের টাকা চুরি করার দায়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী মামলা খেয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দুর্নীতি করে অর্জিত কালো টাকা জরিমানা দিয়ে সাদা করেছেন। আর উনার দুই ছেলে দুর্নীতির অর্থ পাচার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই কর্মকর্তা এ ঘটনায় সাক্ষী দিয়ে গেছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের মতোই ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে একই কায়দায় নির্বিচারে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে নির্যাতন চালিয়েছে। সারাদেশকেই তারা নরকে পরিণত করেছিল। ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া যেন মানুষ হত্যার ইয়াহিয়া খানের ফেলে যাওয়া খাতা খুলে বসেছিলেন । আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের পুত্র সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম প্রমুখ।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান সময়ে আরাম-আয়েশ, অলসতা ও ভোগ বিলাস ত্যাগ করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকতে নিজেদের অলসতা ও ভোগ বিলাসের কারণে আমরা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। আর যেন সেই ভুল না হয় সেজন্য নিজেদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এটাই হয়তো শেষ সুযোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে হয়তো সেই সুযোগ আমরা পাব না। কেননা মুক্তিযোদ্ধা, প্রত্যক্ষ সাক্ষী এমনকি যুদ্ধাপরাধীদেরও বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। একে একে অনেকেই চলে যাচ্ছেন। আগামীতে হয়তো অনেকেই থাকবে না। এ কারণে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রথম ধাপ বর্তমান সরকারের আমলেই শেষ করার লক্ষ্যে স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী নিজামী, গোলাম আযম, মুজাহিদদের জামিনদার হয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া আজ মাঠে নেমেছেন। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের চরম শাস্তি পেতেই হবে।শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, খালেদা জিয়া জনবিচ্ছিন্ন হয়ে লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ‘৭১ ও ‘৭৫-এর ঘাতক চক্র ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে জনগণই এর জবাব দেবে।দুর্নীতিবাজ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন শক্তিই ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া আজ বেসামাল হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতায় থাকতে এতিমের টাকা পর্যন্ত তিনি মেরে খান! পুত্রদের দুর্নীতির ভয়াল চিত্র আজ দেশ-বিদেশে প্রমাণিত।সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর বলেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তার তল্পিবাহকরা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। জাতি আজ খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্পষ্ট জানতে চায়, তার প্রধান সেনাপতি কে? গোলাম আজম, নিজামী ও সাঈদীরা? যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন ও আশ্রয় দিলে দেশের জনগণ কখনোই তা মেনে নেবে না।

Posted in the Reality of 1971 | Comments Off

প্রয়োজনে পদ্মা সেতু বেসরকারি খাতে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রয়োজনে পদ্মা সেতু বেসরকারি খাতে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে একাত্তরের মত ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
১১ ডিসেম্বর ২০১১, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪১
PM4_7033-2222প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে অভিশাপমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার এদেশের মাটিতে করতেই হবে। এজন্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, একাত্তরে এ দেশেরই সন্তান হয়ে যুদ্ধাপরাধীরা দেশের বিরুদ্ধে গাদ্দারি ও মোনাফেকি করেছে। হাজার হাজার মানুষ খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে আমরা দেশকে অভিশাপমুক্ত করতে চাই। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল তথা এ বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে চায় দেশবাসী তাদের বিচার করবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য মূলত এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গতকাল শনিবার গণভবনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের জন্য আর অপেক্ষা নয়, প্রয়োজনে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের (পিপিপি) মাধ্যমে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করা হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায়, কিভাবে এবং কত টাকার দুর্নীতি হয়েছে তা বিশ্বব্যাংককেই প্রমাণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক কী পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো টাকা দিয়েছে? টাকা না দিলে দুর্নীতি হলো কোথায়? পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যেভাবেই হোক এ সেতু আমরা নির্মাণ করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখন তো আগের যোগাযোগ মন্ত্রী নেই। তাই এবার বিশ্বব্যাংক প্রমাণ করুক কোথায় দুর্নীতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ, টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গ উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী তার তিন দিনের মিয়ানমার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এ সফরকালে প্রেসিডেন্ট ইউ থেয়িন সেয়িনের সাথে আন্তরিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, সরাসরি সড়ক, আকাশ ও নৌ পথে যোগাযোগ স্থাপন, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা, কৃষি, শিক্ষা ও পল্লী উন্নয়ন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয় অগ্রাধিকার পায়। এ সময় আমি মিয়ানমারকে পানি বিদ্যুত্ প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছি। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অথবা সরাসরি ক্রেতা হিসেবে সেদেশ থেকে আমরা বিদ্যুত্ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। এছাড়া বাংলাদেশে বিদ্যুত্ ও সার উত্পাদনের জন্য মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানিরও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়ন সম্ভাবনাকে যথার্থভাবে সদ্ব্যবহারে দু’দেশের মধ্যে বহুমুখী যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ককে কার্যকর রূপ দিতে হলে মিয়ানমারের অংশগ্রহণ একান্তভাবে দরকার। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম এবং সিতই-ইয়াংগুন বন্দরের মধ্যে সরাসরি বাস চলাচল পুনরায় চালু করার প্রস্তাবও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে এখনো অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়গুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য দু’দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া এফবিসিসিআই এবং ইউনিয়ন অব মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র মধ্যেও স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি সমঝোতা স্মারক। এতে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মিয়ানমারের পর ইন্দোনেশিয়ায় দু’দিনের সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাত ডিসেম্বর আমি ৪র্থ বালি ডেমোক্রেসি ফোরামে অংশ নিতে যাই। বালিতে পৌঁছানোর পর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোইয়োনোর সাথে আমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এ বৈঠককালে দু’দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে কো-চেয়ার হিসেবে আমার সভাপতিত্ব করার সুযোগ হয়। ফোরামে গণতন্ত্র ও উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আলোচনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের প্রকৃত গণতন্ত্র অর্জনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমি সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। জাতিসংঘে আমার উত্থাপিত শান্তির মডেলকে সমর্থন দেয়ার জন্যও ফোরামে অংশগ্রহণকারী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। কারণ প্রকৃত গণতন্ত্র অর্জন একটি দীর্ঘ নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। এজন্য প্রয়োজন সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। ফোরাম শেষে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আমি জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। আমি বলেছি, দারিদ্র্য বিমোচন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হচ্ছে, অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের পথকে চিরতরে বন্ধ করা।টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্বার্থের কথা ভুলে যান। আর বিরোধী দলে গেলে তার সব মনে পড়ে। একজন (এরশাদ) আজ লংমার্চ এবং অন্যজন (খালেদা জিয়া) বিপ্লব করছেন। এরশাদ দীর্ঘ নয় বছর এবং খালেদা জিয়া দুই মেয়াদে ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তখন তারা টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে কোনো কথা বলেননি কেন? টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বিরোধী দলীয় নেত্রী কী লিখেছেন এবং জবাবে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তার কী জবাব দিয়েছেন তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজ করতে দেয়া হবে না- এ কথা আমরা ভারত সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি। বর্তমান সরকার বিষয়টির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। আগামীতে মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিতে যাব না? কেউ তো তেমন কোনো অন্যায় করেননি। গত তিন বছরে কী একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ বড় ধরনের কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পেরেছে? তিনি বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ৯০ ভাগ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯৩ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। অতীতে কোনো সরকার কী তা করতে সক্ষম হয়েছে? তাহলে বর্তমান মন্ত্রিসভা ব্যর্থ হলো কিভাবে? দেখতে হবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিনা। বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই, বরং এগিয়ে যাচ্ছে।

sheikh hasina

deshratna

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছিল, কারাগারে বন্দি ছিল ২০ হাজার যুদ্ধাপরাধী। তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেয়। কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে আনে। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করবেন, মুক্তি চাবেন-এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশবাসীকে আজ এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে আরো বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক বিষয়টির ওপর নজরদারী করছি। ভারত জানিয়েছে তারা সেখানে কাপ্তাইয়ের মতো বিদ্যুত্ সেচ প্রকল্প নির্মাণ করবে, পানি প্রবাহে কোন ব্যাঘাত ঘটবে না। তিনি বলেন, কিন্তু ক্ষমতায় এসে প্রথম দফায় আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধি দল এবং এবার দু’জন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভারতে গিয়ে সেদেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। এ সময় তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আজ যারা বিপ্লব করতে চাইছেন, ক্ষমতায় থাকতে তারা কী করেছেন? কেন কোন প্রতিবাদ করেননি?
প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু যেভাবেই হোক আমরা নির্মাণ করব। বিদেশে যারা এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে তাদেরকে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নের আহ্বান জানাব। বেসরকারিভাবে যারা কাজ করতে চাইবে তারা সেতু তৈরি করে টাকা তুলে নিয়ে যাবে। এতে আমাদের একটি টাকাও লাগবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন, কোরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশকেই পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। আবারও আহ্বান জানাবো। সরকার টু সরকার কিংবা যে দেশ নির্মাণ করতে চাইবে সেদেশের মনোনীত কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। তারা সেতু নির্মাণ করবে, সেতু পরিচালনা করে নিজেদের টাকা তুলে নিয়ে যাবে। তিনি জানান, বেসরকারিভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। সিইও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যেসব বিদেশী কোম্পানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, সেসব কোম্পানীকে নিয়ে আমরা সেতুটি নির্মাণ করতে যাব কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিসিসি দু’ভাগ হয়েছে, তাতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর কী ক্ষতি হলো? এ নিয়ে এতো তার মায়াকান্নাই বা কেন? তিনি তো কখনো সিটি করপোরেশনে ভোট দিতে পারেননি। ভোটারও ছিলেন না। কেননা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ডিসিসির আওতার বাইরে। শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকাকে কোন ভাগ করা হয়নি। রাজধানীর নাগরিকদের সেবা দোরগড়ায় পৌঁছে দিতে ডিসিসিকে দু’ভাগ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঐতিহ্যের রাজধানী নয়াদিল্লী সিটি করপোরেশনকে তিনভাগে বিভক্ত করায় সেখানে বিরোধী দল কী কোন লংমার্চ বা হরতাল করেছে কীনা প্রশ্ন রেখে বলেন, সেখানে বিরোধিতা নয় বরং বিরোধী দল সমর্থন দিয়েছে। কারণ এতে নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, দশটা হুন্ডা, বিশটা গুন্ডা-নির্বাচন ঠাণ্ডা, সেই অবস্থা এখন দেশে নেই। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার আমরা নিশ্চিত করেছি, জনগণ এখন স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোট দিয়ে পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। একটা কেন, এখন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দুটো সিটি করপোরেশনেই বিএনপি আসুক, আমাদের কোন অসুবিধা নেই। নির্বাচনে কে জিতলো বা হারলো সে ব্যাপারে আমাদের মাথাব্যথা নেই, জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভোট দিতে পারবে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ সকল উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচন কোন ধরনের হস্তক্ষেপমুক্ত নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে এমন অবস্থান কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি, কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চাই।
সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Posted in The leading political party | Comments Off

শোক দিবসে জন্মদিন পালনের জন্য মানুষ খালেদাকে ক্ষমা করবে না: আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

শোক দিবসে জন্মদিন পালনের জন্য মানুষ খালেদাকে ক্ষমা করবে না: আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

১৮ আগস্ট ২০১১ | ৩ ভাদ্র ১৪১৮

জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিন পালন করে যে পাপ করেছেন তা এ দেশের মানুষ কোনদিন ক্ষমা করবে না। বেগম জিয়া এখনও মনেপ্রাণে পাকিস্তানী প্রেমিক বলেই পবিত্র সংবিধান ছুড়ে ফেলার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন। বেগম জিয়ার হাত আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরম্নল ইমাম, সাংবাদিক বালু, নাটোরের মমতাজ, গাজীপুরের আহসানউল্লাহ মাস্টার, শাহ এসএম কিবরিয়াসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্তে রঞ্জিত। যার হাত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর রক্তে রঞ্জিত তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এক টেবিলে বসতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, খালেদা জিয়া দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন বিশ্বাস করেন না। শুধু ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করেন। সে কারণেই তিনি বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চান। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, খুনিরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবল্পুব্দকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে অকার্যকর করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবল্পুব্দকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের স্বপ্নকে সফল করতে দেননি। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তিরা সরকারের বিরুদ্ধে এখনও নানা ষড়যন্ত্র করছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য তিনি শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।ফজলুল হক মন্টু বলেন, স্বাধীনতা যাতে সফল হতে না পারে সে কারণেই চক্রান্তকারীরা বঙ্গবল্পুব্দকে সপরিবারে হত্যা করেছিল।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্ট জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকীতে আর ভূয়া জন্মদিন পালন না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের খুশি করার জন্যই যে বেগম খালেদা জিয়া হঠাৎ করেই ১৯৯৩ সাল থেকে ১৫ আগস্টকে ভূয়া জন্মদিন পালন করে আসছেন তা আজ জাতির কাছে অত্যন্ত পরিস্কার।এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর (উত্তর) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।প্রতিমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম এবার হয়ত আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। জাতির কাছে আপনি ক্ষমা চেয়ে ঘোষণা দেবেন যে, আপনি কেক কেটে আর ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন করবেন না। কিন্তু এবারও আপনি কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছেন।’বিরোধী দলীয় নেত্রীকে প্রশ্ন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসলে আপনার সত্যিকার জন্মদিন কোনটি? প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনার ম্যারেজ সার্টিফিকেট অনুযায়ী দেখা যায় আপনার জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট, আবার সার্ক সম্মেলনে দেয়া তথ্যানুযায়ী দেখা গেছে আপনার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যখন শপথ নিয়েছেন তখন জন্মতারিখ দিয়েছেন ১৯৪৭ সাল।তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনি যখন প্রথম সংসদ নির্বাচন করলেন তখন নির্বাচন কমিশনে দেয়া তথ্যানুযায়ী আপনার জন্ম তারিখ ছিল ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট, আপনি যখন প্রথম পাসপোর্ট করলেন সে তথ্যানুযায়ী দেখা যায় আপনার জন্মতারিখ ১৯৪৬ সালের ১৯ আগস্ট।
এসব কিছু বাদ দিয়ে হঠাৎ করেই আপনার প্রেস সেক্রেটারী আপনাকে বললেন যে ম্যাডাম আপনার জন্মদিন ১৫ আগস্ট আর তার পর থেকে আপনি ৭৫-এর খুনিদের খুশি করার উদ্দেশ্যে এই ভূয়া জন্মদিন পালন করে আসছেন।নানক বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দ্যেশে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আপনাকে প্রমাণ করতে হবে কোন শক্তির বলে আপনি ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেন। নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী প্রমাণিত যে আপনি ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট ভারতের বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আজকে আপনি আন্দোলনের ভয় দেখান। তিনি বলেন, আপনি জেনে রাখুন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে যদি আপনারও কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তবে আপনাকেও রেহাই দেয়া হবে না।ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তরের সভাপতি এসএম রবিউল ইসলাম সোহেল-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন।এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না সহ সভায় ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর (উত্তর) থানার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Posted in the Reality of 1971 | Comments Off

আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দেহ থেকে ২০০১-২০০৬ কতো হাজার গ্যালন রক্ত নিয়েছিলেন?

ফেনী নোয়াখালীর সশস্ত্র সন্ত্রাস বাহিনীর প্রধান খালেদা তারেক ও বাবরের প্রধান স্বঘোষিত সামরিক উপদেষ্টা সাংসদ জয়নাল আবেদীন ফারুক কাল সেচ্ছায় রক্তদান অভিযানে যোগ দিয়ে প্রমান করলেন যে তিনি দেশকে কতোটা ভালোবাসেন। তার আগে আমাদের হিসেব নেয়া উচিত তিনি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দেহ থেকে ২০০১-২০০৬ কতো হাজার গ্যালন রক্ত নিয়েছিলেন?  

ফেনী নোয়াখালীর এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং নোয়াখালী আওয়ামী লীগ/যুব লীগ ধংশের মুল নায়ক। বাবর তারেক সাকা ও খালেদা জিয়ার প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী জয়নাল আবেদীন ফারুক নামেই খ্যাত। জনতার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবার প্রয়োজন পড়েনা। তার পূর্বেই ভিপি জয়নাল এবং জয়নাল আবদীন ফারুক ধানের শীষের বক্স বোঝাই হয়ে যায়। যার অধীনে পরিচালিত হতো বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। অস্ত্র আসতো সাকা চৌধুরী ও গিয়াস কাদের চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারের ট্রাকে ।

আওয়ামী লীগের অন্যতম ত্যাগী নেতা জয়নাল হাজারীর সারা জীবনের রাজনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে এই  নরঘাতক জাত সন্ত্রাসী ভি পি ফারুক। হাজার হাজার আওয়ামী, যুব ও ছাত্র লীগের নেতা কর্মী ভক্তদের হত্যা করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলো এই জয়নাল আবেদীন ফারুক। জয়নালের মতো একজন দুর্ধর্ষ খুনী সন্ত্রাসিকে জাতীয় সংসদে ঢুকার ছাড়পত্র দেয়াটাই জাতির জন্য বড় লজ্জা ও ন্যাক্কারজনক। ।

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা জয়নাল হাজারীর নামে এই ফারুক সেনাবাহিনীর অফিসারদের বড় অংকের টাকা দিয়ে যতো সব মিত্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং সাজানো অস্ত্র ও সেনাবাহিনীর ড্রেস হাজারীর বাড়ীতে আগে থেকেই লুকিয়ে রেখে মিডিয়ার ক্যামেরা সাংবাদিক নিয়ে লোক দেখানো নাটক মঞ্চস্থ জাতির উদ্দেশ্যে প্রচার করা হলো। সব পত্র পত্রিকায় বড় বড় অক্ষরে প্রধান শিরোনাম ছিলো ” জয়নাল হাজারীর বাড়ীতে যৌথ বাহিনী কর্তৃক সেনা বাহিনীর ড্রেস, টুপি ও অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার”।                                                                 বাঙ্গালী জাতি বিশ্বাস করে নিলেন এবং হাজারীকে নরকের কীট বানিয়ে ছাড়লেন। দুঃখজনক হলেও আসল সত্য ঘটনা দেশবাসী আওয়ামী লীগে ক্ষমতায় আসার তিন বছরের মাথায়ও জানতেই পারলো না।

“তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছিল জয়নাল হাজারীর বাড়ীতে।  অভিযানের ভারপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর মেজর, কর্নেল সবাই ছিলেন সাকা চৌধুরী, মেজর কামরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল খায়ের লিটু ও জয়নাল আবেদীন ফারুকের আত্বীয় স্বজন ।  গভীর রাতে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সাথে যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে জাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে জঘন্য যতো সব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জয়নাল হাজারীকে একটি জাতীয় কুলাঙ্গার হিসেবে রাজনৈতিক জীবন থেকে ময়লা আবর্জনার ডাষ্টবিনে নিক্ষেপ করেছিলো। যে কারনে এখন জয়নাল হাজারি কঠিন সত্য কথা বলতে গেলেও কেউ আর আগের মতো গুরুত্ব দিয়ে শুন্তে চায়না।

দেশের কোটি জনতার কাছে জয়নাল হাজারী পরিচিত হল একজন টেরোরিষ্ট হিসেবে। এ কথা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবার পরেও জনতার উদ্দেশ্যে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়নি। শুধু বিষয়টি লন্ডনস্থ আব্দুল গাফফার চৌধুরী সাহেব জানতেন। “আওয়ামী লীগের ঢীলে ঢালা মান্দাতার আমলের তাল পাতায় লেখা অ ও আ’র অক্ষরের সাথে হাত ঘুড়ানো” ধাঁচের প্রচার ব্যবস্থার কারনে দেশের মানুষ অনেক বাস্তব সত্য ঘটনাদি জানতে পারে না। কোন রাজনৈতিক দলের প্রচার ব্যবস্থা দুর্বল হলে তারা জনগণের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যায়। আওয়ামী লীগ এর প্রচার ব্যবস্থায় সচ্ছতা ও গতি না থাকার কারনে বি এন পি’র যে কোনো ক্ষুদ্রতম ঘটনাবলী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় অতি তাড়াতাড়ি। যেমন জামাত বিএনপি’র অনেক গুলো এফএমব্যান্ড রেডিও, টিভি চ্যানেল, দৈনিক/সাপ্তাহিক ইংরেজী ও বাংলা পত্রিকা/ ম্যাগাজিন ট্যাবলয়েড যেটি আওয়ামী লীগের নেই। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধান্মন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টাগণ কি ভাবেন সেটি জানতে পারলে নিজেকে কৃতার্থবোধ করে ধন্য হতাম।

Posted in News Update | 1 Comment

Happy Birth Day to Bangabandhu

Nation observes Bangabandhu’s birthday to day

The government and various socio-cultural and political organisations have chalked out elaborate programmes to mark the 91st birth anniversary of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and the National Children’s Day

jubo-league

BSS adds: The nation will observe the 91st birth anniversary of Bangabandhu and the National Children’s Day today with due respect and festivity.

The day is a public holiday. Bangladesh Betar, Bangladesh Television and private TV and radio stations will air special programmes, while national dailies will publish special supplements highlighting the significance of the day.

Paying rich tributes to Bangabandhu, President Zillur Rahman and Prime Minister Sheikh Hasina gave separate messages on the occasion. President Zillur Rahman and Prime Minister Sheikh Hasina will visit Tungipara, the birthplace of Bangabandhu, this morning and place wreaths and offer munajat at his mazar there. The prime minister will address a children’s rally on the mazar premises, open a library and distribute sewing machines among the distressed people. After returning from Tungipara, the president will inaugurate the National Children’s Day programme to be arranged by Bangabandhu Shishu Kishore Mela at Bangabhaban at 12 noon.

Bangladesh Awami League has drawn up countrywide elaborate programmes to observe the day in a befitting manner.

happy birth day to dear father of nation

The programmes include hoisting of the national and party flags at Bangabandhu Bhaban in the city and Awami League offices across the country at 6:30 am, placing of wreaths at the portrait of the Father of the Nation in front of Bangabandhu Bhaban at Dhanmondi at 7:00am. A central delegation of the party led by its President and Prime Minister Sheikh Hasina will place wreaths at Bangabandhu’s mazar at Tungipara.

Sheikh Hasina will address as the chief guest a discussion to be organised by Awami League at the Bangabandhu International Conference Centre in the city at 4:00pm on Friday. Besides playing of recorded historic March 7 speech of Bangabandhu throughout the day, special prayers and milad mahfil seeking peace of the departed souls of Bangabandhu and his other family members, will be held across the country. Different associate organisations of the party including Mohila Awami League, Awami Jubo League, Jubo Mohila League, Krishak League, Chhatra League, Sramik League, Sechchhasebak League, Joy Bangla Sangskritik Jote, Bangabandhu Sangskritik Jote and Swadhinata Chikitsak Parishad have also chalked out elaborate programmes on the occasion.

Bangabandhu Memorial Trust, Sector Commanders Forum, Ghatak Nirmul Committee of ’75, Bangabandhu Projanmo League, Muktijoddha Sangsad, Muktijoddha Sanghati Parishad, Bangabandhu Nagorik Sanghati Parishad, Mukijuddher Chetona Bastabayan Committee, Jatiya Ganotantrik League, NAP (Bhashani), Education Ministry, Information Ministry and Cultural Affairs Ministry, Shishu Academy, Bangla Academy and Shilpakala Academy and Islamic Foundation, Fisheries Department will hold various programmes on the occasion.

Posted in News Update | Comments Off